দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত একটি সিনেমা বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ রুপি। মালয়ালম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার রেকর্ড গড়া ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় ১৩ গুণ আয় করেছে। নিভিন পাওলি ও মামিথা বাইজু অভিনীত পরিচালক গিরিশ এডির এই রোমান্টিক কমেডির সাফল্য নজর কেড়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
বড় বাজেটের সিনেমা যখন বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না, তখন তুলনামূলক কম খরচে নির্মিত এই সিনেমার এমন আয় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এর সাফল্যের গল্প শুধু ৩৩০ কোটি রুপি আয়ের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় আয়, দর্শকদের কাছে গল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রের অন্য ব্যবসাসফল সিনেমার সঙ্গে তুলনা, সব মিলিয়েই আলোচনায় উঠে এসেছে ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’।
২৫ কোটি রুপি বাজেট, আয় ৩৩০ কোটি
সম্প্রতি ক্লাব এফএমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মাতা গিরিশ এডি জানান, সিনেমাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি রুপি। শিল্পভিত্তিক তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের হিসাব অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ রুপি।
এর মধ্যে ভারতের বাজার থেকে আয় হয়েছে ১৯২ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে ১৩৮ কোটি ৪৫ লাখ রুপি। ভারতে কর বাদে সিনেমাটির আয় ১৬৪ কোটি ৯১ লাখ রুপি।
অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী মোট আয়ের হিসাবে সিনেমাটি তার নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় ১৩ গুণ আয় করেছে। এ সাফল্য একে মালয়ালম চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার অবস্থানে নিয়ে গেছে।
বড় বাজেট নয়, গল্প নির্মাণেই গুরুত্ব
নিজের সিনেমা নির্মাণের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গিরিশ এডি বলেন, তার নির্মিত কোনো সিনেমাকেই খুব বড় মাপের বলা যায় না। একসময় মালয়ালম চলচ্চিত্রে ১০ কোটি রুপির বাজেটকে বিশাল মনে করা হতো। এখন তা স্বাভাবিক বাজেটে পরিণত হয়েছে।
‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর বাজেট প্রায় ২৫ কোটি রুপি হলেও এটিকেও অত্যন্ত বড় বাজেটের সিনেমা বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন জানিয়ে গিরিশ বলেন, হঠাৎ করে বিপুল বাজেটের সিনেমা নির্মাণের কথা ভাবেননি। ভবিষ্যতে এমন সিনেমা নির্মাণ করলে সেটি কোনো সুপারস্টারকে নিয়ে হতে হবে বলেও জানান তিনি।
মালয়ালম চলচ্চিত্রের অন্য ব্যবসাসফল সিনেমা
বিশ্বব্যাপী আয়ের তালিকায় ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে ‘লোকাহ চ্যাপ্টার ১: চন্দ্র’, ‘এল২: এমপুরান’, ‘মাঞ্জুমেল বয়েজ’ ও ‘দৃশ্যম ৩’।
২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া পরিচালক ডমিনিক অ্যারুনের ‘লোকাহ চ্যাপ্টার ১: চন্দ্র’ বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৩০১ কোটি ৪১ লাখ রুপি। সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় ছিল বলে জানা গেছে প্রায় ৩০ কোটি রুপি।
প্রিথ্বীরাজ সুকুমারন পরিচালিত ও মোহনলাল অভিনীত ‘এল২: এমপুরান’ আয় করেছে ২৬৬ কোটি ৮১ লাখ রুপি। এর নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি রুপি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া চিদাম্বরমের ‘মাঞ্জুমেল বয়েজ’ প্রায় ২০ কোটি রুপি নির্মাণ ব্যয়ের বিপরীতে আয় করেছে ২৪১ কোটি ৩ লাখ রুপি। মোহনলাল অভিনীত ‘দৃশ্যম ৩’ বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ২৩৯ কোটি ৮৩ লাখ রুপি। তবে সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এই হিসাব দেখায়, তুলনামূলক কম বাজেটে নির্মিত সিনেমাও মালয়ালম চলচ্চিত্রের বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর আয় ও নির্মাণ ব্যয়ের ব্যবধান সেই দিকটিই সামনে এনেছে।
৩৩০ কোটি আয় মানেই প্রযোজকদের হাতে পুরো অর্থ নয়
সিনেমাটির বিপুল আয় নিয়ে আলোচনা হলেও প্রযোজকেরা মোট আয়ের অর্ধেকও পাবেন না বলে জানিয়েছেন অভিনেতা ও সহপ্রযোজক ফাহাদ ফাসিল। সম্প্রতি কিউ স্টুডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা ৩০০ কোটি রুপির অর্ধেকও তাদের কারও হাতে আসবে না। কারণ, এই অঙ্কটি সিনেমাটির মোট আয় বা মোট বক্স অফিস সংগ্রহ।
অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই প্রযোজকদের কাছে যায় না। তাই ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ রুপি আয়কে সরাসরি প্রযোজকদের মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/অ